জনতার প্রেস

মূল পাতা

সারাদেশ

​বরগুনার আমতলীতে হামের প্রাদুর্ভাব: শয্যা ও ওষুধ সংকটে মেঝেতে শিশুরা, চরম ভোগান্তি।

​বরগুনার আমতলীতে হামের প্রাদুর্ভাব: শয্যা ও ওষুধ সংকটে মেঝেতে শিশুরা, চরম ভোগান্তি।

বরগুনার আমতলী উপজেলায় হঠাৎ করেই শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। গত ১৩ দিনে হামের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে ৩০টি শিশু। আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য বিশেষ ইউনিট করা হলেও সেখানে নেই পর্যাপ্ত শয্যা (বেড)। ফলে বাধ্য হয়ে মেঝেতেই বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে শিশুদের। এর ওপর হাসপাতালে দেখা দিয়েছে জরুরি অ্যান্টিবায়োটিক ও ডিএনএস স্যালাইনের তীব্র সংকট।

​শয্যা না থাকায় মেঝেতেই চিকিৎসাঃ

​আজ মঙ্গলবার দুপুরে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে দেখা যায় এক করুণ চিত্র। হামে আক্রান্ত শিশুদের জন্য আলাদা একটি ইউনিট গঠন করা হলেও সেখানে কোনো শয্যা খালি নেই। গাদাগাদি করে মেঝেতেই বিছানা পেতে শিশুদের চিকিৎসা দিচ্ছেন স্বজনেরা। তীব্র গরমে মেঝেতে শুয়ে থাকা অসুস্থ শিশু ও তাদের মা-বাবাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক শিশুর স্বজন তাজিনুর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:​"হাসপাতালে কোনো বেড নেই। নিরুপায় হয়ে মেঝেতেই বিছানা পেতে বাচ্চার চিকিৎসা করাচ্ছি। তার ওপর আবার ওষুধও কিনতে হচ্ছে বাইরে থেকে।"

​ওষুধ ও স্যালাইনের তীব্র সংকট, ক্ষুব্ধ স্বজনেরাঃ

​হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ভর্তি হওয়া ৩০ শিশুর মধ্যে এ পর্যন্ত ১৫ শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। তবে বর্তমানে হাসপাতালে জরুরি অ্যান্টিবায়োটিক ও ডিএনএস স্যালাইনের তীব্র ঘাটতি রয়েছে। হাসপাতাল থেকে এসব প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করতে না পারায় রোগীদের বাইরে থেকে চড়া মূল্যে কিনতে হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সীমিত স্টক থাকায় এসব ওষুধ কেবল 'হতদরিদ্র' পরিবারদের সরবরাহ করা হচ্ছে।রাবেয়া নামের আরেকজন রোগীর স্বজন জানান:​"হাসপাতাল থেকে কোনো অ্যান্টিবায়োটিক কিংবা ডিএনএস স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে না। সব ওষুধ আমাদের বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে। গরিব মানুষের পক্ষে এভাবে খরচ চালানো অসম্ভব।"

কর্তৃপক্ষ যা বলছেঃ

​ওষুধ সংকটের কথা স্বীকার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) হুমায়ুন আহমেদ সুমন বলেন:​"হামে আক্রান্ত শিশুদের আমরা সাধ্যমতো যথাযথ চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করছি। তবে এটি সত্যি যে, হাসপাতালে বর্তমানে অ্যান্টিবায়োটিক ও ডিএনএস স্যালাইনের কিছুটা সংকট রয়েছে। তাই আমরা বাধ্য হয়ে কেবল হতদরিদ্র শিশুদেরই এই ওষুধ ও স্যালাইনগুলো বিনামূল্যে সরবরাহ করছি।"সংকট দ্রুত কেটে যাওয়ার আশ্বাস দিয়ে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিন্ময় হাওলাদার বলেন:​"নতুন অর্থবছর শুরু হওয়ার কারণে সরকারি ওষুধ সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি বা সংকট তৈরি হয়েছে। তবে এটি সাময়িক। আশা করছি, আগামী কিছুদিনের মধ্যেই এই সংকট পুরোপুরি কেটে যাবে এবং রোগীরা সব ধরনের ওষুধ হাসপাতাল থেকেই পাবেন।"স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত যেন হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ ও শয্যার ব্যবস্থা করে এই অসহায় শিশুদের দুর্ভোগ লাঘব করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন

​বরগুনার আমতলীতে হামের প্রাদুর্ভাব: শয্যা ও ওষুধ সংকটে মেঝেতে শিশুরা, চরম ভোগান্তি।
0:00 0:00
1.0x
জনতার প্রেস

বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬


​বরগুনার আমতলীতে হামের প্রাদুর্ভাব: শয্যা ও ওষুধ সংকটে মেঝেতে শিশুরা, চরম ভোগান্তি।

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুলাই ২০২৬

featured Image

বরগুনার আমতলী উপজেলায় হঠাৎ করেই শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। গত ১৩ দিনে হামের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে ৩০টি শিশু। আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য বিশেষ ইউনিট করা হলেও সেখানে নেই পর্যাপ্ত শয্যা (বেড)। ফলে বাধ্য হয়ে মেঝেতেই বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে শিশুদের। এর ওপর হাসপাতালে দেখা দিয়েছে জরুরি অ্যান্টিবায়োটিক ও ডিএনএস স্যালাইনের তীব্র সংকট।

​শয্যা না থাকায় মেঝেতেই চিকিৎসাঃ

​আজ মঙ্গলবার দুপুরে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে দেখা যায় এক করুণ চিত্র। হামে আক্রান্ত শিশুদের জন্য আলাদা একটি ইউনিট গঠন করা হলেও সেখানে কোনো শয্যা খালি নেই। গাদাগাদি করে মেঝেতেই বিছানা পেতে শিশুদের চিকিৎসা দিচ্ছেন স্বজনেরা। তীব্র গরমে মেঝেতে শুয়ে থাকা অসুস্থ শিশু ও তাদের মা-বাবাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক শিশুর স্বজন তাজিনুর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:​"হাসপাতালে কোনো বেড নেই। নিরুপায় হয়ে মেঝেতেই বিছানা পেতে বাচ্চার চিকিৎসা করাচ্ছি। তার ওপর আবার ওষুধও কিনতে হচ্ছে বাইরে থেকে।"

​ওষুধ ও স্যালাইনের তীব্র সংকট, ক্ষুব্ধ স্বজনেরাঃ

​হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ভর্তি হওয়া ৩০ শিশুর মধ্যে এ পর্যন্ত ১৫ শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। তবে বর্তমানে হাসপাতালে জরুরি অ্যান্টিবায়োটিক ও ডিএনএস স্যালাইনের তীব্র ঘাটতি রয়েছে। হাসপাতাল থেকে এসব প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করতে না পারায় রোগীদের বাইরে থেকে চড়া মূল্যে কিনতে হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সীমিত স্টক থাকায় এসব ওষুধ কেবল 'হতদরিদ্র' পরিবারদের সরবরাহ করা হচ্ছে।রাবেয়া নামের আরেকজন রোগীর স্বজন জানান:​"হাসপাতাল থেকে কোনো অ্যান্টিবায়োটিক কিংবা ডিএনএস স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে না। সব ওষুধ আমাদের বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে। গরিব মানুষের পক্ষে এভাবে খরচ চালানো অসম্ভব।"

কর্তৃপক্ষ যা বলছেঃ

​ওষুধ সংকটের কথা স্বীকার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) হুমায়ুন আহমেদ সুমন বলেন:​"হামে আক্রান্ত শিশুদের আমরা সাধ্যমতো যথাযথ চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করছি। তবে এটি সত্যি যে, হাসপাতালে বর্তমানে অ্যান্টিবায়োটিক ও ডিএনএস স্যালাইনের কিছুটা সংকট রয়েছে। তাই আমরা বাধ্য হয়ে কেবল হতদরিদ্র শিশুদেরই এই ওষুধ ও স্যালাইনগুলো বিনামূল্যে সরবরাহ করছি।"সংকট দ্রুত কেটে যাওয়ার আশ্বাস দিয়ে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিন্ময় হাওলাদার বলেন:​"নতুন অর্থবছর শুরু হওয়ার কারণে সরকারি ওষুধ সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি বা সংকট তৈরি হয়েছে। তবে এটি সাময়িক। আশা করছি, আগামী কিছুদিনের মধ্যেই এই সংকট পুরোপুরি কেটে যাবে এবং রোগীরা সব ধরনের ওষুধ হাসপাতাল থেকেই পাবেন।"স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত যেন হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ ও শয্যার ব্যবস্থা করে এই অসহায় শিশুদের দুর্ভোগ লাঘব করা হয়।


জনতার প্রেস

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোঃ আরেফিন ইসলাম 
নির্বাহী সম্পাদক
আবুল কালাম আজাদ
বার্তা সম্পাদক
মুক্তা আক্তার

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত জনতার প্রেস