মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসের শুরু থেকে এ পর্যন্ত তাদের প্রত্যক্ষ সহায়তায় ৮০০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ এবং প্রায় ৩৮ কোটি (৩৮০ মিলিয়ন) ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এই প্রণালী দিয়ে নিরাপদে পার হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই বার্তার পেছনে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমীকরণ।
সেন্টকমের এই অনমনীয় অবস্থানের পেছনে প্রধানত তিনটি ভূ-রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করছে:
মার্কিন প্রশাসনের এই দাবিকে সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছে তেহরান। ইরানের সরকারি অবস্থান এবং সাম্প্রতিক বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের এই ন্যারেটিভের একদম বিপরীত। তেহরানের যুক্তিগুলোও বেশ জোরালো:
এই পুরো বিরোধের মূল জটটি লেগেছে "নিয়ন্ত্রণ (Control)" শব্দটির সংজ্ঞাকে কেন্দ্র করে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজকে একটি মুক্ত আন্তর্জাতিক জলপথ হিসেবে দেখে, যেখানে সবার সমান অধিকার। অন্যদিকে, ইরান মনে করে তাদের ভৌগোলিক অবস্থান ও সামরিক সক্ষমতার কারণে এই প্রণালীতে তাদের একটি "নির্ধারক প্রভাব" রয়েছে এবং প্রয়োজনে তারা সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে দ্বিধা করবে না।
সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে শুরু হওয়া এই উত্তেজনা আসলে কেবলই কথার লড়াই নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে এক গভীর চাল। ইরান খুব ভালো করেই জানে, হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাব হারালে যেকোনো আন্তর্জাতিক শান্তি আলোচনা বা দরকষাকষিতে তারা তাদের প্রধান শক্তির জায়গাটি হারিয়ে ফেলবে।
ঠিক এই কারণেই, আমেরিকা ও তার মিত্ররা আলোচনা প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করার পাশাপাশি কৌশলগতভাবে হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। জলপথের এই স্নায়ুযুদ্ধ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনে মধ্যপ্রাচ্য তথা সমগ্র বিশ্বের জ্বালানি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা।

শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুলাই ২০২৬
মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসের শুরু থেকে এ পর্যন্ত তাদের প্রত্যক্ষ সহায়তায় ৮০০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ এবং প্রায় ৩৮ কোটি (৩৮০ মিলিয়ন) ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এই প্রণালী দিয়ে নিরাপদে পার হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই বার্তার পেছনে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমীকরণ।
সেন্টকমের এই অনমনীয় অবস্থানের পেছনে প্রধানত তিনটি ভূ-রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করছে:
মার্কিন প্রশাসনের এই দাবিকে সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছে তেহরান। ইরানের সরকারি অবস্থান এবং সাম্প্রতিক বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের এই ন্যারেটিভের একদম বিপরীত। তেহরানের যুক্তিগুলোও বেশ জোরালো:
এই পুরো বিরোধের মূল জটটি লেগেছে "নিয়ন্ত্রণ (Control)" শব্দটির সংজ্ঞাকে কেন্দ্র করে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজকে একটি মুক্ত আন্তর্জাতিক জলপথ হিসেবে দেখে, যেখানে সবার সমান অধিকার। অন্যদিকে, ইরান মনে করে তাদের ভৌগোলিক অবস্থান ও সামরিক সক্ষমতার কারণে এই প্রণালীতে তাদের একটি "নির্ধারক প্রভাব" রয়েছে এবং প্রয়োজনে তারা সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে দ্বিধা করবে না।
সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে শুরু হওয়া এই উত্তেজনা আসলে কেবলই কথার লড়াই নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে এক গভীর চাল। ইরান খুব ভালো করেই জানে, হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাব হারালে যেকোনো আন্তর্জাতিক শান্তি আলোচনা বা দরকষাকষিতে তারা তাদের প্রধান শক্তির জায়গাটি হারিয়ে ফেলবে।
ঠিক এই কারণেই, আমেরিকা ও তার মিত্ররা আলোচনা প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করার পাশাপাশি কৌশলগতভাবে হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। জলপথের এই স্নায়ুযুদ্ধ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনে মধ্যপ্রাচ্য তথা সমগ্র বিশ্বের জ্বালানি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা।

আপনার মতামত লিখুন