জনতার প্রেস

মূল পাতা

চিত্র বার্তা

রূপের গুনে ভোট মেলে ঠিকই কিন্তু নেতৃত্ব? গবেষণা বলছে ভিন্ন কথা

রূপের গুনে ভোট মেলে ঠিকই কিন্তু নেতৃত্ব? গবেষণা বলছে ভিন্ন কথা
জাস্টিন ট্রুডো, জোহরান মামদানি, জর্জিয়া মেলোনি ও জেসিন্ডা আরডার্ন। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে ভোটের মাঠে ইদানিং একটি বিষয় বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে। সেটা হলো সৌন্দর্য। অনেক দেশে অভিনয় জগতের তারকারা নেমে আসছেন রাজনীতির মাঠে আবার অনেক দেশে রাজনীতিবিদেরাই দেখাচ্ছেন সৌন্দর্যের খেল। সুদর্শন রূপ দিয়ে নজর কেড়েছেন কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, আরও আছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ, নিউইয়র্কের জোহরান মামদানি। আর নারীদের মধ্যে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন, মেক্সিকোর প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেনবাউম তাঁদের সৌন্দর্যে মুগ্ধ করেছেন। তবে প্রশ্ন উঠছে, বাহ্যিক রূপ ভোটে প্রভাব ফেললেও সুদর্শন রাজনীতবিদেরা নেতৃত্বে কতটা যোগ্যতা দেখাতে পারছেন?

রাজনীতিবিদদের শারীরিক আকর্ষণীয়তা নির্বাচনে তাঁদের বাড়তি সুবিধা এনে দিতে পারে। তবে ক্ষমতায় যাওয়ার পর তাঁরা কীভাবে শাসন করেন, সে ক্ষেত্রে এর কোনো প্রভাব পড়ে না বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে।

গবেষণাটি বলছে, ভোটকেন্দ্রে ব্যালট বাক্সে পছন্দের ক্ষেত্রে ভোটাররা প্রার্থীর বাহ্যিক চেহারা দেখে প্রভাবিত হতে পারেন; তবে নির্বাচিত হওয়ার পর রাজনীতিবিদরা মূলত তাঁদের একই রাজনৈতিক পটভূমির সহকর্মীদের মতো একই নীতিগত অগ্রাধিকার অনুসরণ করেন।

ইউরোপিয়ান জার্নাল অব পলিটিক্যাল ইকোনমিতে ‘দ্য বিউটি প্রিমিয়াম ইন পলিটিকস? পারসেপশনস অ্যান্ড পলিটিক্যাল বিহেভিয়ার’ (রাজনীতিতে সৌন্দর্যের বাড়তি সুবিধা? ধারণা এবং রাজনৈতিক আচরণ) শিরোনামে প্রকাশিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, অপেক্ষাকৃত কম আকর্ষণীয় চেহারার রাজনীতিবিদদের তুলনায় সুদর্শন রাজনীতিবিদদের অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার (রেন্ট-সিকিং) বা ভোটারদের পছন্দের বাইরে যাওয়ার প্রবণতা বেশি নয়। গবেষকেরা সুদর্শন ও কম আকর্ষণীয় রাজনীতিবিদদের নীতিগত অবস্থান বা আইনপ্রণয়ন সংক্রান্ত আচরণেও কোনো উল্লেখযোগ্য পার্থক্য খুঁজে পাননি।

সুদর্শন রাজনীতিবিদরা নির্বাচনে অন্যায্য সুবিধা পান কি না, তা নিয়ে বহু বছর ধরে গবেষকদের মধ্যে বিতর্ক চলছে। অসংখ্য গবেষণায় দেখা গেছে, ভোটাররা প্রায়ই প্রার্থীর আকর্ষণীয় চেহারার সঙ্গে তাঁর যোগ্যতা, বুদ্ধিমত্তা এবং নির্ভরযোগ্যতার মতো গুণাবলিকে মেলাতেন। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে প্রার্থীরা বাড়তি সুবিধা পেয়ে যেতেন।

তবে এই গবেষণাটি বলছে, নির্বাচন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এই সুবিধার মেয়াদও মূলত ফুরিয়ে যায়।

রাজনীতিবিদদের আইন প্রণয়নের রেকর্ড, নীতিগত অবস্থান এবং ভোটাভুটির আচরণ পর্যালোচনার পর গবেষকেরা খুব কমই এমন প্রমাণ পেয়েছেন যে, শারীরিক আকর্ষণ আদর্শিক পছন্দ, আইন প্রণয়নের অগ্রাধিকার কিংবা সুশাসনের ক্ষেত্রে কোনো ভিন্নতা তৈরি করে। আকর্ষণীয় চেহারার রাজনীতিবিদরা তাঁদের চেয়ে কম আকর্ষণীয় সহকর্মীদের তুলনায় ভিন্ন কোনো নীতিকে ধারাবাহিকভাবে সমর্থন করেননি, ভিন্নভাবে ভোট দেননি কিংবা আলাদাভাবে দেশ পরিচালনাও করেননি।

এই গবেষণায় নির্বাচনী সাফল্য এবং নীতিনির্ধারণের মধ্যকার একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

বাহ্যিক অবয়ব প্রাথমিক ধারণাকে প্রভাবিত করতে পারে, বিশেষ করে যখন ভোটাররা প্রার্থীদের সম্পর্কে খুব কম জানেন। এ ধরনের পরিস্থিতিতে মানুষ যোগ্যতা বা নেতৃত্বের ক্ষমতা বিচার করতে প্রায়ই চোখে যা দেখছেন তার ওপর নির্ভর করে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা একে ‘হিউরিস্টিকস’ বা মানসিক সংক্ষিপ্ত পথ হিসেবে বর্ণনা করেন, যা জটিল সিদ্ধান্তকে সহজ করে তোলে।

কিন্তু রাজনীতিবিদরা যখন একবার দপ্তরে বসেন, তখন ব্যক্তিগত চেহারার চেয়ে প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মকানুন, দলীয় আদর্শ, নির্বাচনী এলাকার জনগণের চাহিদা এবং আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অনেক বড় ভূমিকা পালন করে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রচারণার ছবি এবং জনমনে তৈরি হওয়া ধারণা নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারলেও, একজন রাজনীতিবিদ দপ্তরে কেমন পারফর্ম বা কাজ করবেন, তার নির্দেশক হিসেবে এগুলো খুবই দুর্বল মাধ্যম।

গবেষকদের মতে, ভোটারদের উচিত প্রার্থীর বাহ্যিক চেহারার চেয়ে তাঁর নীতি, অভিজ্ঞতা এবং পূর্বের কাজের রেকর্ডের ওপর বেশি জোর দেওয়া। যদিও আকর্ষণীয় প্রার্থীরা ভোটের মাঠে শুরুর দিকে কিছুটা সুবিধা পেতে পারেন, তবে প্রমাণ বলছে যে কেবল সুন্দর চেহারা দিয়ে সরকার কীভাবে চলবে বা তারা কী নীতি অনুসরণ করবে, তা নির্ধারিত হয় না।

জীবনধারা জেনে নিন নির্বাচন ভোটার কানাডা

আপনার মতামত লিখুন

রূপের গুনে ভোট মেলে ঠিকই কিন্তু নেতৃত্ব? গবেষণা বলছে ভিন্ন কথা
0:00 0:00
1.0x
জনতার প্রেস

বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬


রূপের গুনে ভোট মেলে ঠিকই কিন্তু নেতৃত্ব? গবেষণা বলছে ভিন্ন কথা

প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুলাই ২০২৬

featured Image

বিশ্বজুড়ে ভোটের মাঠে ইদানিং একটি বিষয় বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে। সেটা হলো সৌন্দর্য। অনেক দেশে অভিনয় জগতের তারকারা নেমে আসছেন রাজনীতির মাঠে আবার অনেক দেশে রাজনীতিবিদেরাই দেখাচ্ছেন সৌন্দর্যের খেল। সুদর্শন রূপ দিয়ে নজর কেড়েছেন কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, আরও আছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ, নিউইয়র্কের জোহরান মামদানি। আর নারীদের মধ্যে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন, মেক্সিকোর প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেনবাউম তাঁদের সৌন্দর্যে মুগ্ধ করেছেন। তবে প্রশ্ন উঠছে, বাহ্যিক রূপ ভোটে প্রভাব ফেললেও সুদর্শন রাজনীতবিদেরা নেতৃত্বে কতটা যোগ্যতা দেখাতে পারছেন?

রাজনীতিবিদদের শারীরিক আকর্ষণীয়তা নির্বাচনে তাঁদের বাড়তি সুবিধা এনে দিতে পারে। তবে ক্ষমতায় যাওয়ার পর তাঁরা কীভাবে শাসন করেন, সে ক্ষেত্রে এর কোনো প্রভাব পড়ে না বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে।

গবেষণাটি বলছে, ভোটকেন্দ্রে ব্যালট বাক্সে পছন্দের ক্ষেত্রে ভোটাররা প্রার্থীর বাহ্যিক চেহারা দেখে প্রভাবিত হতে পারেন; তবে নির্বাচিত হওয়ার পর রাজনীতিবিদরা মূলত তাঁদের একই রাজনৈতিক পটভূমির সহকর্মীদের মতো একই নীতিগত অগ্রাধিকার অনুসরণ করেন।

ইউরোপিয়ান জার্নাল অব পলিটিক্যাল ইকোনমিতে ‘দ্য বিউটি প্রিমিয়াম ইন পলিটিকস? পারসেপশনস অ্যান্ড পলিটিক্যাল বিহেভিয়ার’ (রাজনীতিতে সৌন্দর্যের বাড়তি সুবিধা? ধারণা এবং রাজনৈতিক আচরণ) শিরোনামে প্রকাশিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, অপেক্ষাকৃত কম আকর্ষণীয় চেহারার রাজনীতিবিদদের তুলনায় সুদর্শন রাজনীতিবিদদের অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার (রেন্ট-সিকিং) বা ভোটারদের পছন্দের বাইরে যাওয়ার প্রবণতা বেশি নয়। গবেষকেরা সুদর্শন ও কম আকর্ষণীয় রাজনীতিবিদদের নীতিগত অবস্থান বা আইনপ্রণয়ন সংক্রান্ত আচরণেও কোনো উল্লেখযোগ্য পার্থক্য খুঁজে পাননি।

সুদর্শন রাজনীতিবিদরা নির্বাচনে অন্যায্য সুবিধা পান কি না, তা নিয়ে বহু বছর ধরে গবেষকদের মধ্যে বিতর্ক চলছে। অসংখ্য গবেষণায় দেখা গেছে, ভোটাররা প্রায়ই প্রার্থীর আকর্ষণীয় চেহারার সঙ্গে তাঁর যোগ্যতা, বুদ্ধিমত্তা এবং নির্ভরযোগ্যতার মতো গুণাবলিকে মেলাতেন। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে প্রার্থীরা বাড়তি সুবিধা পেয়ে যেতেন।

তবে এই গবেষণাটি বলছে, নির্বাচন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এই সুবিধার মেয়াদও মূলত ফুরিয়ে যায়।

রাজনীতিবিদদের আইন প্রণয়নের রেকর্ড, নীতিগত অবস্থান এবং ভোটাভুটির আচরণ পর্যালোচনার পর গবেষকেরা খুব কমই এমন প্রমাণ পেয়েছেন যে, শারীরিক আকর্ষণ আদর্শিক পছন্দ, আইন প্রণয়নের অগ্রাধিকার কিংবা সুশাসনের ক্ষেত্রে কোনো ভিন্নতা তৈরি করে। আকর্ষণীয় চেহারার রাজনীতিবিদরা তাঁদের চেয়ে কম আকর্ষণীয় সহকর্মীদের তুলনায় ভিন্ন কোনো নীতিকে ধারাবাহিকভাবে সমর্থন করেননি, ভিন্নভাবে ভোট দেননি কিংবা আলাদাভাবে দেশ পরিচালনাও করেননি।

এই গবেষণায় নির্বাচনী সাফল্য এবং নীতিনির্ধারণের মধ্যকার একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

বাহ্যিক অবয়ব প্রাথমিক ধারণাকে প্রভাবিত করতে পারে, বিশেষ করে যখন ভোটাররা প্রার্থীদের সম্পর্কে খুব কম জানেন। এ ধরনের পরিস্থিতিতে মানুষ যোগ্যতা বা নেতৃত্বের ক্ষমতা বিচার করতে প্রায়ই চোখে যা দেখছেন তার ওপর নির্ভর করে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা একে ‘হিউরিস্টিকস’ বা মানসিক সংক্ষিপ্ত পথ হিসেবে বর্ণনা করেন, যা জটিল সিদ্ধান্তকে সহজ করে তোলে।

কিন্তু রাজনীতিবিদরা যখন একবার দপ্তরে বসেন, তখন ব্যক্তিগত চেহারার চেয়ে প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মকানুন, দলীয় আদর্শ, নির্বাচনী এলাকার জনগণের চাহিদা এবং আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অনেক বড় ভূমিকা পালন করে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রচারণার ছবি এবং জনমনে তৈরি হওয়া ধারণা নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারলেও, একজন রাজনীতিবিদ দপ্তরে কেমন পারফর্ম বা কাজ করবেন, তার নির্দেশক হিসেবে এগুলো খুবই দুর্বল মাধ্যম।

গবেষকদের মতে, ভোটারদের উচিত প্রার্থীর বাহ্যিক চেহারার চেয়ে তাঁর নীতি, অভিজ্ঞতা এবং পূর্বের কাজের রেকর্ডের ওপর বেশি জোর দেওয়া। যদিও আকর্ষণীয় প্রার্থীরা ভোটের মাঠে শুরুর দিকে কিছুটা সুবিধা পেতে পারেন, তবে প্রমাণ বলছে যে কেবল সুন্দর চেহারা দিয়ে সরকার কীভাবে চলবে বা তারা কী নীতি অনুসরণ করবে, তা নির্ধারিত হয় না।


জনতার প্রেস

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোঃ আরেফিন ইসলাম 
নির্বাহী সম্পাদক
আবুল কালাম আজাদ
বার্তা সম্পাদক
মুক্তা আক্তার

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত জনতার প্রেস