প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬
জয়পুরহাটে ল্যাপটপ বিতরণ ও সার ডিলারশিপে অনিয়মের অভিযোগ বিএনপি নেতা ফয়সাল আলিমের
মুক্তা আক্তার , বার্তা সম্পাদক ||
জয়পুরহাট জুলাইযোদ্ধাদের মধ্যে বিনা মূল্যে ল্যাপটপ বিতরণ এবং সার ডিলারশিপ বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফয়সাল আলিম। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাঁর দেওয়া একটি স্ট্যাটাস ঘিরে দলটির নেতা-কর্মীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে ফয়সাল আলিম লেখেন, ‘ল্যাপটপগুলি ভাগাভাগি করে নিজেদের মধ্যে খেয়ে ফেললেন।’ একই পোস্টে গত ছয় মাসে বিভিন্ন প্রকল্পে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ‘খাওয়া’ হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, এখন আর কিছু অবশিষ্ট না থাকায় সেই ‘খাওয়া’ বন্ধ হয়ে গেছে।সার ডিলারশিপ বরাদ্দ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির এই নেতা। তাঁর অভিযোগ, নির্যাতিত নেতা-কর্মীদের বাদ দিয়ে ডিলারশিপ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এমনকি কয়েকজন নিজেদের আত্মীয়দেরও এ সুযোগ করে দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। পোস্টের শেষে ফয়সাল আলিম লেখেন, ‘আমি তো অবাক নয়নে দেখে যাচ্ছি আমাদের জয়পুরহাটের কী হবে?’ফেসবুক পোস্টে পক্ষে-বিপক্ষে প্রতিক্রিয়াফয়সাল আলিমের এই পোস্টের পর মন্তব্যের ঘরে পক্ষে-বিপক্ষে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন, আবার কেউ তাঁর সমালোচনা করেছেন।তারিক হোসেন খান নামে এক ব্যক্তি মন্তব্যে স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনের ইঙ্গিত দেন। তবে এ বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য বা প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।অন্যদিকে বেলাল হোসেন ফয়সাল আলিমের সমালোচনা করে বলেন, কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে তাঁর নিজের দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও আলোচনায় আসা উচিত। তাঁর মন্তব্য, ‘এ পর্যন্ত যা দেখছি, তা হলো কিছু সস্তা পোস্ট আর কিছু লোক দেখানো ছবি।’ এ ধরনের বক্তব্য দলের অভ্যন্তরীণ বিতর্ক ও কোন্দল বাড়াতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।জিল্লুর রহমান নামে আরেকজন ফেসবুক পোস্টটিকে জামায়াতের প্রচারের সঙ্গে তুলনা করেন। তাঁর দাবি, বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের বক্তব্যে জামায়াত লাভবান হবে। তবে তাঁর এসব দাবির পক্ষেও কোনো প্রমাণ দেওয়া হয়নি।ল্যাপটপ বিতরণ ও সার ডিলারশিপ নিয়ে যা বললেন ফয়সালজয়পুরহাট জেলা পরিষদ সম্প্রতি জুলাইযোদ্ধাদের মধ্যে বিনা মূল্যে ল্যাপটপ বিতরণ করেছে। ওই কর্মসূচিতে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ফয়সাল আলিম বলেন, ‘কারা ল্যাপটপ ভাগাভাগি করল, সেটি জয়পুরহাটবাসী জানে। আবার বিভিন্ন প্রকল্পের পারসেন্টেজের বিষয়টিও জানে। সত্যি কথা বলতে হবে।’সার ডিলারশিপ বরাদ্দের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি সারের ডিলার কারা পেয়েছেন, সেটিও প্রকাশ হয়েছে। কেউ শাশুড়ির নামে, কেউ শ্যালকের নামে নিয়েছেন। দলে কি নেতা-কর্মীর অভাব ছিল? তারা পেলেন না কেন?’নিজের ফেসবুক পোস্টের ব্যাখ্যায় ফয়সাল আলিম দাবি করেন, তাঁর বক্তব্য দলের বিরুদ্ধে নয়, বরং দলের স্বার্থেই দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি স্ট্যাটাস দিয়ে দলের বিরুদ্ধে নয়, দলের পক্ষে কথা বলেছি। কারণ, দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোনো অনিয়ম-দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেন না।’জেলা বিএনপির আহ্বায়কের প্রতিক্রিয়াফয়সাল আলিমের ফেসবুক পোস্টের বিষয়ে জয়পুরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন বলেন, ‘আমি ফয়সাল আলিম সাহেবের ফেসবুকের স্ট্যাটাস দেখেছি। আমার স্ট্যাটাস পড়তে রুচিতে বেঁধেছে। অথচ কেউ স্ট্যাটাস দিল, তার কিছুই মনে হয়নি।’এদিকে ল্যাপটপ বিতরণ, বিভিন্ন প্রকল্পে কথিত কমিশন গ্রহণ এবং সার ডিলারশিপ বরাদ্দে আত্মীয়দের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তি, প্রকল্প বা নথিভিত্তিক বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেননি ফয়সাল আলিম।ফলে তাঁর তোলা অভিযোগগুলোর সত্যতা ও বরাদ্দপ্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য বা কোনো তদন্তের ফলাফল পাওয়া গেলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত জনতার প্রেস