প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকার বায়ুদূষণ ‘লজ্জাজনক’, ৬ মাসে মাদার ট্রি সংরক্ষণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
আবুল কালাম আজাদ ||
ঢাকার অব্যাহত বায়ুদূষণ নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর তালিকায় বছরের পর বছর ঢাকা প্রথম বা দ্বিতীয় অবস্থানে থাকাকে দেশের জন্য ‘অত্যন্ত লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। পরিস্থিতির পরিবর্তনে পরিবেশ রক্ষায় প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও বাস্তবায়নবিষয়ক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু সাংবাদিকদের সভার সিদ্ধান্তগুলো জানান।
ছয় মাসে চিহ্নিত হবে সব মাদার ট্রিসভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের সব ‘মাদার ট্রি’ বা বংশবিস্তারকারী প্রাচীন ও মূল বৃক্ষ চিহ্নিত করে সেগুলো সংরক্ষণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া দেশজুড়ে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর বৃহৎ পরিকল্পনার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।তিনি বলেন, শুধু গাছ লাগালেই হবে না, রোপণ করা চারাগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। গাছগুলো যথাযথভাবে টিকে আছে কি না, তা সরেজমিনে তদারকির নির্দেশও দেন তিনি।সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, অন্যান্য মন্ত্রণালয় নির্ধারিত বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হলে সেই ঘাটতি পূরণে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব নিতে হবে। একই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে দ্রুত বনাঞ্চল বাড়ানোর কার্যকর উপায় খুঁজে বের করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
দায়িত্বের বাইরে গিয়েও কাজ করতে হবেপরিবেশ রক্ষায় সরকারি কর্মকর্তাদের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁদের কেবল নির্ধারিত দাপ্তরিক দায়িত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। দেশের স্বার্থে বাড়তি উদ্যোগ নেওয়ার মানসিকতা ও সক্ষমতা কাজে লাগাতে হবে।তিনি বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সুযোগ সবার জীবনে আসে না। পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই শুধু সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অফিস করার মধ্যে দায়িত্ব সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের জন্য অতিরিক্ত অবদান রাখার ওপর জোর দেন তিনি।
ছাদবাগান ও ভবনে সবুজায়নে উৎসাহশহরের বাসিন্দাদের প্রকৃতির সান্নিধ্যে আসার সুযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। ইট-কাঠের নগরীতে মানুষ যাতে সবুজ পরিবেশে সময় কাটাতে পারে, সে জন্য প্রাকৃতিক পরিবেশসমৃদ্ধ স্থান বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।এ লক্ষ্যে সাধারণ মানুষকে ছাদবাগান, স্কুলবাগান এবং আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনে সবুজায়ন তৈরিতে উৎসাহিত করার তাগিদ দেন সরকারপ্রধান।প্রধানমন্ত্রীর মতে, বায়ুদূষণ মোকাবিলা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি গাছের পরিচর্যা, বন সংরক্ষণ এবং নাগরিকদের সচেতন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত জনতার প্রেস