প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদনের অপেক্ষা, নভেম্বরে মিলতে পারে বিদ্যুৎ
মুক্তা আক্তার , বার্তা সম্পাদক ||
পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ। পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হয়েছে। পরবর্তী ধাপগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হলে আগামী নভেম্বরেই পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এর মধ্য দিয়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির পথ আরও সুগম হবে।বিশেষজ্ঞদের মতে, বিপুল বিনিয়োগে নির্মিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদন শুরু এবং প্রকল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে প্রতিটি ধাপ সম্পন্ন করার ওপর জোর দিয়েছেন তাঁরা।পাবনার রূপপুরে নির্মাণাধীন এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে গত মে মাসে ইউরেনিয়াম জ্বালানি প্রবেশ করানো হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের মধ্যে পারমাণবিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে নিরাপত্তা ভাল্বের ত্রুটির কারণে নির্ধারিত সময়সূচি বাধাগ্রস্ত হয়।সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে দুই দফায় উচ্চচাপে ভাল্বের পরীক্ষা চালিয়ে সফল হন রাশিয়ার বিশেষজ্ঞরা। এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাওয়ার পর ১১ অক্টোবর চুল্লিতে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হয়। সব প্রক্রিয়া পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে চলতি বছরই পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হতে পারে।
যেভাবে উৎপাদিত হবে বিদ্যুৎরূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রথমে চুল্লির ভেতরে ইউরেনিয়াম পরমাণুর বিভাজনের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ তাপশক্তি উৎপন্ন হবে। এ প্রক্রিয়ায় তাপমাত্রা ও চাপসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সূচক নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতাও পরীক্ষা করা হবে।পরবর্তী ধাপে উৎপন্ন তাপের সাহায্যে পানি থেকে বাষ্প তৈরি করা হবে। উচ্চচাপের সেই বাষ্প টারবাইন ঘোরাবে। টারবাইনের সঙ্গে যুক্ত জেনারেটরের মাধ্যমে উৎপাদিত হবে বিদ্যুৎ। তবে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা, নিরাপত্তা যাচাই ও অন্যান্য কারিগরি ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করতে হবে।
প্রকল্পে ব্যয় ১ হাজার ২৬৫ কোটি ডলাররূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২৬৫ কোটি মার্কিন ডলার। প্রকল্পের অর্থায়নের প্রায় ৯০ শতাংশ এসেছে রাশিয়ার ঋণ থেকে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু, প্রকল্পের কার্যকর ব্যবহার এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সুফল নিশ্চিত করা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।দুটি ইউনিটে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে কেন্দ্রটির। উভয় ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
৬০ বছর বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যরূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হলে দীর্ঘমেয়াদে দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কেন্দ্রটি প্রায় ৬০ বছর বিদ্যুৎ উৎপাদনের উপযোগী করে পরিচালনার লক্ষ্য রয়েছে।তবে এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে নিরাপত্তা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, দক্ষ জনবল এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিপুল বিনিয়োগের সুফল পেতে উৎপাদন কার্যক্রমের পাশাপাশি কেন্দ্রটির নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন পরিচালনাও সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।জনতার প্রেস |
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত জনতার প্রেস