প্রিন্ট এর তারিখ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬
শাহজালাল বিমানবন্দরে নতুন ২০০ ট্রলি, আরও ১৫০ আসছে
||
হলে সংখ্যা দাঁড়াবে ৪ হাজার ৫৪০-এ। দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমার আশা কর্তৃপক্ষেরনিজস্ব প্রতিবেদক | জনতার প্রেসহযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ট্রলি সংকট নিরসনে নতুন করে ২০০টি ট্রলি যুক্ত হয়েছে। এ ছাড়া প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আরও ১৫০টি ট্রলি যুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। নতুন ট্রলি সংযোজনের ফলে বিমানবন্দরে যাত্রীদের মালামাল পরিবহনে ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ এসব তথ্য জানান।তিনি বলেন, গত ৩ অক্টোবর কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে ২০০টি ট্রলি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনা হয়েছে। এ ছাড়া প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে আরও ২০০টি ট্রলি দেওয়া হবে। এর মধ্যে ১৫০টি শাহজালাল বিমানবন্দরে রাখা হবে। বাকি ৫০টি দেওয়া হবে সিলেট ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে।বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক জানান, বর্তমানে শাহজালাল বিমানবন্দরে ট্রলির সংখ্যা ৪ হাজার ৩৯০টি। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া ১৫০টি ট্রলি যুক্ত হলে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ৪ হাজার ৫৪০টিতে।ট্রলি সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, একসঙ্গে অনেকগুলো ফ্লাইট অবতরণ করলে কখনো কখনো ট্রলির সংকট দেখা দেয়। তবে নতুন ট্রলি যুক্ত হওয়ার পর এ সমস্যা আর থাকবে না বলে তাঁরা আশা করছেন।এক বছর ধরে ট্রলি নিয়ে ভোগান্তিবিমানবন্দরে গত প্রায় এক বছর ধরে ট্রলি সংকট নিয়ে যাত্রীদের ভোগান্তি চলছিল। ইমিগ্রেশন শেষ করে লাগেজ সংগ্রহের পর ট্রলি পেতে অনেক যাত্রীকে অপেক্ষা করতে হতো। কখনো কখনো আগে ট্রলি পাওয়ার জন্য যাত্রীদের মধ্যে তাড়াহুড়ো ও প্রতিযোগিতার পরিস্থিতিও তৈরি হতো।জানা গেছে, গত হজ মৌসুমের আগে বিমানবন্দরে পর্যাপ্ত ট্রলি নিশ্চিত করার বিষয়ে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) লিখিতভাবে সতর্ক করেছিল। হজ শেষে বিপুলসংখ্যক হাজি দেশে ফিরলে ট্রলির তীব্র সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। এ সময় ট্রলি নিয়ে বিমানবন্দরের ভেতরে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কার কথাও জানানো হয়েছিল।এ পরিস্থিতিতে মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বেবিচককে নির্দেশনা দেওয়া হয়। অন্যদিকে, বেবিচকের সংশ্লিষ্ট কেনাকাটা বিভাগ থেকে ৫০০টি ট্রলি কেনার প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সদর দপ্তরে পাঠানো হলেও তা অনুমোদিত হয়নি বলে জানা গেছে।এরপর হজের ফিরতি মৌসুমে ট্রলি সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। ট্রলি না পেয়ে যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কোনো কোনো ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে মারামারি ও বিমানবন্দরের ভেতরে অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সে সময় চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দর থেকে ২৫০টি ট্রলি এনে ব্যবহার করা হয়।সম্প্রতি ওমরাহ শেষে দেশে ফেরা জামায়াতের সংসদ সদস্যদের যাত্রা ঘিরেও বিমানবন্দরে ট্রলি সংকটের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভট্রলি না পেয়ে অনেক যাত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ করে ক্ষোভ জানিয়ে আসছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, বিদেশ থেকে ফিরে ইমিগ্রেশন ও লাগেজ সংগ্রহের পর মালামাল নিয়ে বিমানবন্দর থেকে বের হতে পর্যাপ্ত ট্রলি পাওয়া যায় না। এতে বিশেষ করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভ্রমণকারী, বয়স্ক ব্যক্তি ও বেশি মালামাল বহনকারী যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন।কিছু যাত্রী ট্রলি সংকটের জন্য কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের মতে, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার মান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ট্রলি সার্বক্ষণিক ব্যবহারের উপযোগী রাখা জরুরি।এ অবস্থায় কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে আনা ২০০টি ট্রলি এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আরও ১৫০টি ট্রলি যুক্ত হওয়ার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে নতুন ট্রলি যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি সেগুলোর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি স্থায়ীভাবে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত জনতার প্রেস