প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬
রূপপুরের প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর অনুমোদন
||
নিজস্ব প্রতিবেদক | জনতার প্রেসদীর্ঘ প্রতীক্ষা ও নানা কারিগরি চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন মিলেছে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ অতিক্রম করল।বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়রা) প্রথম ইউনিটের ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’র অনুমোদন দেয়। পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আগে রিঅ্যাক্টরে নিয়ন্ত্রিত ও স্বয়ংসম্পূর্ণ পারমাণবিক শৃঙ্খল বিক্রিয়া শুরু করার প্রক্রিয়াকেই ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’ বলা হয়।বায়রার চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর অনুমতি মিললেও জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের আগে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
কারিগরি জটিলতায় আটকে ছিল অনুমোদনপ্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, রূপপুরের প্রথম ইউনিটের স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমনের সেফটি ভালভ (পিওআরভি/পিওএসভি) নিয়ে প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’র অনুমোদন পেতে কিছুটা বিলম্ব হয়।পরে রাশিয়া থেকে আসা বিশেষজ্ঞদের একটি দল বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করে সমস্যার সমাধান করে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন কারিগরি পরীক্ষায় সেফটি ব্যবস্থাটি সন্তোষজনক ফল দেখায়। এর ফলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
শুরু হবে ‘ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ’বায়রার অনুমোদনের পর প্রথম ইউনিটের রিঅ্যাক্টরে ধাপে ধাপে স্থিতিশীল ও স্বয়ংসম্পূর্ণ পারমাণবিক শৃঙ্খল বিক্রিয়া শুরু করা হবে। এর মাধ্যমে রিঅ্যাক্টরটি নিষ্ক্রিয় অবস্থা থেকে সক্রিয় অপারেশনাল পর্যায়ে প্রবেশ করবে।‘ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ’ পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরকে নির্ধারিত পূর্ণ তাপীয় ক্ষমতার এক শতাংশেরও কম শক্তিমাত্রায় পরিচালনা করে প্রাথমিক ক্রিটিক্যালিটি অর্জন করা হবে।এ সময় রিঅ্যাক্টরের বিভিন্ন পরামিতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জামের কার্যকারিতা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে। ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’সহ পুরো ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ প্রক্রিয়ায় আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ দিন সময় লাগতে পারে।পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক হলে ধাপে ধাপে রিঅ্যাক্টরের শক্তি উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো হবে।
এরপর ‘পাওয়ার স্টার্ট-আপ’ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর প্রকল্পটি ‘পাওয়ার স্টার্ট-আপ’ পর্যায়ে প্রবেশ করবে। এ পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা পর্যায়ক্রমে বাড়ানোর পাশাপাশি টারবাইনের সঙ্গে সমন্বয় এবং শেষ পর্যন্ত জেনারেটরকে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হবে।তবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের আগে পরিচালনাকারী সংস্থাকে বায়রার কাছ থেকে পৃথকভাবে ট্রায়াল অপারেশনাল লাইসেন্স নিতে হবে।
ধাপে ধাপে বাড়বে উৎপাদনপ্রকল্পসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হলে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩ শতাংশ শক্তিমাত্রা থেকে কার্যক্রম শুরু করা হবে। এরপর ধাপে ধাপে তা ২০ থেকে ৩০ শতাংশে উন্নীত করা হবে।এই পর্যায়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সফল হলে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের সুযোগ তৈরি হবে। বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার আগে প্রায় ৭ থেকে ৮ মাস পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে বাংলাদেশরূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট জাতীয় গ্রিডে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করলে বাংলাদেশ বিশ্বের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশগুলোর তালিকায় যুক্ত হবে।প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রকৌশল খাতে বাংলাদেশের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত জনতার প্রেস