প্রিন্ট এর তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬
বিটিআরসি চার মাস পরপর করবে গন শুনানি কমছে ভয়েস কলের ফ্লোর প্রাইস
আবুল কালাম আজাদ , নির্বাহী সম্পাদক ||
টেলিযোগাযোগ সেবার বিষয়ে গ্রাহক ও অংশীজনদের অভিযোগ, মতামত, প্রশ্ন ও সুপারিশ জানতে প্রতি চার মাসে একবার গণশুনানি আয়োজন করবে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। কমিশনের সপ্তম গণশুনানিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।বুধবার সকালে অনলাইনে আয়োজিত বিটিআরসির সপ্তম গণশুনানিতে এ তথ্য জানানো হয়। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি ভবন থেকে কমিশনের কর্মকর্তারা এতে যুক্ত হন। পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম কনভে ও জুমের মাধ্যমে গ্রাহক, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীজনেরা অংশ নেন।গণশুনানিতে সভাপতিত্ব করেন বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগের কমিশনার মাহমুদ হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কমিশনের সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহজাদ পারভেজ মহিউদ্দিন।গণশুনানিতে টেলিযোগাযোগ সেবার মান, নেটওয়ার্ক কাভারেজ, কলড্রপ, ইন্টারনেটের গতি ও মূল্য, মোবাইল ডেটা ও ভয়েস সেবার চার্জ এবং গ্রাহকসেবা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন, অভিযোগ ও মতামত তুলে ধরেন অংশগ্রহণকারীরা।বিটিআরসি জানিয়েছে, গণশুনানিকে কেন্দ্র করে গত ১৭ থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত অনলাইনে মোট ২ হাজার ৯৯০ জন গ্রাহক নিবন্ধন করেন। তাঁদের মধ্যে নারী অংশগ্রহণকারী ছিলেন ১৭২ জন।কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গণশুনানিতে সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগ-সংশ্লিষ্ট ১ হাজার ৪৫টি, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগ-সংশ্লিষ্ট ৮৪৪টি, স্পেকট্রাম বিভাগ-সংশ্লিষ্ট ৬৩টি, লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সিং বিভাগ-সংশ্লিষ্ট ১৯টি এবং এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড ইন্সপেকশন ডিরেক্টরেট-সংশ্লিষ্ট ৫টি অভিযোগ, মতামত ও প্রশ্ন এসেছে।সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে ট্যারিফ, ডেটা স্পিড ও মেয়াদ, ডেটা ক্যারি-ফরওয়ার্ড, নেটওয়ার্ক কাভারেজ, সিম নিবন্ধন, ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর), লাইসেন্স এবং সেবার মান নিয়ে।গণশুনানিতে স্বাগত বক্তব্যে স্পেকট্রাম বিভাগের কমিশনার মাহমুদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইন, ২০০১ (সংশোধিত ২০২৬)-এর ৮৭ ধারা অনুযায়ী কমিশন প্রতি চার মাসে একবার গণশুনানি আয়োজন করবে। এতে জনগণ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা টেলিযোগাযোগ সেবা, ট্যারিফ, লাইসেন্সিং এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন, মতামত, সুপারিশ ও উদ্বেগ তুলে ধরার সুযোগ পাবেন।তিনি বলেন, গণশুনানিতে উত্থাপিত গঠনমূলক প্রশ্ন, সুপারিশ ও উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে কমিশনের গণশুনানি কার্য-পর্যবেক্ষণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় সমাধান এবং অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে।গণশুনানিতে জামালপুরের গ্রাহক রাকীব রায়হান মোবাইল অপারেটরদের কলরেট কমানো এবং গ্রামাঞ্চলে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন মোবাইল অপারেটর টেলিটকের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের বিষয়ে জানতে চান।জবাবে বিটিআরসির সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের মহাপরিচালক জানান, বর্তমানে কমিশন নির্ধারিত ভয়েস কলের ট্যারিফ সর্বনিম্ন ৪৫ পয়সা এবং সর্বোচ্চ ২ টাকা। গ্রাহকদের স্বার্থ বিবেচনায় ভয়েস কলের ফ্লোর প্রাইস কমানোর বিষয়ে বিটিআরসিতে কাজ চলছে।টেলিটকের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ বিষয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিউল আলম পারভেজ বলেন, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন মোবাইল অপারেটর টেলিটক বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে দেশব্যাপী নেটওয়ার্ক রোলআউটের বাধ্যবাধকতা পূরণ করছে। পাশাপাশি হাওর-বাঁওড়সহ দেশের প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকাতেও বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।এদিকে অনলাইনের পরিবর্তে গ্রাহকদের সরাসরি অংশগ্রহণে গণশুনানি আয়োজনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন।বুধবার দুপুরে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, গণশুনানির মূল উদ্দেশ্য হলো সাধারণ গ্রাহকের মতামত, অভিযোগ, সমস্যা ও প্রত্যাশা সরাসরি নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি করা। কিন্তু সীমিত পরিসরে অনলাইনে গণশুনানি আয়োজন করে দেশের কোটি কোটি গ্রাহকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।সংগঠনটির দাবি, দেশে এখনো প্রায় ৪৫ শতাংশ মানুষ ফিচার ফোন ব্যবহার করেন এবং অনেক মানুষ ইন্টারনেট সুবিধার বাইরে রয়েছেন। ফলে অনলাইনে গণশুনানি আয়োজন কতটা যুক্তিসংগত, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন জানায়, ২০২২ সালের গণশুনানিতে ৮৪৮ জন নিবন্ধন করলেও অংশ নিতে পেরেছিলেন মাত্র ৯৪ জন। ২০২৪ সালে সশরীরে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হলেও ২০২৫ সালে আবার অনলাইনে আয়োজন করা হয়।সংগঠনটির অভিযোগ, ২০২৫ সালের গণশুনানিতে অংশ নিয়েও তারা কথা বলার সুযোগ পায়নি। এবারও প্রায় ৩ হাজার ৫০০ জন নিবন্ধন করলেও হাতেগোনা কয়েকজনের বক্তব্য শোনা হয়েছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। এ অবস্থায় গণশুনানিতে প্রকৃত অর্থে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে তারা।গণশুনানিতে বিটিআরসির প্রশাসন বিভাগের মহাপরিচালক মো. মেহেদী-উল-সহিদ, স্পেকট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আমিনুল হক, লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সিং বিভাগের মহাপরিচালক আশীষ কুমার কুন্ডুসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত জনতার প্রেস