প্রিন্ট এর তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬
ঢাকাকে বাসযোগ্য রাখতে বিআইপির সাত সুপারিশ
আবুল কালাম আজাদ , নির্বাহী সম্পাদক ||
রাজধানী ঢাকাকে বাসযোগ্য রাখতে পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা রক্ষা ও বাস্তবায়নসহ সাতটি সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)। সংগঠনটি বলেছে, এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে রাজধানীর বাসযোগ্যতার আরও দ্রুত অবনতি ঘটবে।মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর বাংলামটরে প্ল্যানার্স টাওয়ারে ‘ঢাকা শহরের বাসযোগ্যতা: চ্যালেঞ্জ ও পরিকল্পিত সমাধানের পথরেখা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব সুপারিশ তুলে ধরে বিআইপি।সংবাদ সম্মেলনে বিআইপির পক্ষ থেকে বলা হয়, রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক পরিবর্তন হলেও চলমান পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে তা পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক কিংবা ব্যক্তিস্বার্থে অনুমোদিত পরিকল্পনার মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন বা বাতিল করা যাবে না।বিআইপি বলেছে, পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অক্ষুণ্ন রেখে প্রতি পাঁচ বছর পরপর পরিকল্পনার অগ্রগতি ও প্রতিবন্ধকতা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে পরিকল্পনাবিদ, সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ, সরকারি সংস্থা ও স্থানীয় অংশীজনদের মতামত অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।সংগঠনটির আরেকটি সুপারিশ হলো, খণ্ডিত এলাকাভিত্তিক, একক খাতভিত্তিক বা স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার পরিবর্তে ভূমি ব্যবহার, পরিবহন, পরিবেশ, আবাসন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সমন্বিত করে জাতীয় ও আঞ্চলিক স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা।এ ছাড়া অনুমোদিত পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত না করে জলাভূমি, কৃষিজমি, জলাধারসহ পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকায় কোনো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ না করার দাবি জানিয়েছে বিআইপি।যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের আগে সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনার সঙ্গে প্রকল্পটির সামঞ্জস্য যাচাই করে একটি সংক্ষিপ্ত ‘পরিকল্পনা সামঞ্জস্যতা প্রতিবেদন’ বাধ্যতামূলকভাবে জমা দেওয়ার ব্যবস্থারও সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।বিআইপি মনে করে, উন্নয়ন কার্যক্রমকে বিচ্ছিন্ন প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আগামী কয়েক দশকের নগর ও আঞ্চলিক চাহিদা, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও পরিকল্পনাভিত্তিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।সংবাদ সম্মেলনে বিআইপির সভাপতি পরিকল্পনাবিদ ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি ড. আদিল মুহাম্মদ খান, স্থানিক পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞ পরিকল্পনাবিদ এ. কে. এম. রিয়াজ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মু. মোসলেহ উদ্দীন হাসান, পরিকল্পনাবিদ তালহা তাসনিমসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।সূচনা বক্তব্যে বিআইপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মু. মোসলেহ উদ্দীন হাসান বলেন, পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হলেও এর যথাযথ বাস্তবায়ন না হওয়া, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে ঢাকার বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।বিআইপির সাবেক সভাপতি ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, গত ছয় মাসে নগরীর বাসযোগ্যতা উন্নয়নে সরকার কার্যকর ও দৃশ্যমানভাবে কতটুকু উদ্যোগ নিয়েছে, তা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। ঢাকার ফুটপাত দখল, অবৈধ ব্যবসা, চাঁদাবাজি এবং নগর ব্যবস্থাপনায় রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়গুলো উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।বিআইপির সভাপতি পরিকল্পনাবিদ ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, দ্রুত নগরায়ণের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিকল্পিত অবকাঠামো ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা না গেলে ঢাকা ক্রমেই বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। তাই দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে রাজধানীর বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত জনতার প্রেস