প্রিন্ট এর তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬
তিন বছরে সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আধুনিকায়নের পরিকল্পনা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
আবুল কালাম আজাদ , নির্বাহী সম্পাদক ||
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অবহেলিত স্বাস্থ্য খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি দেশের চিকিৎসাসেবা পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে নয়তলা বিশিষ্ট আধুনিক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। ধাপে ধাপে দেশের ৫০ শয্যাবিশিষ্ট সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হবে।রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ, মহেশপুর ও কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের চিকিৎসা খাত মারাত্মকভাবে অবহেলিত হয়েছে। অন্যান্য খাতের মতো স্বাস্থ্য খাতেও ব্যাপক লুটপাট হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। দায়বদ্ধতার অভাবে স্বাস্থ্যসেবাও ব্যাহত হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।তিনি অভিযোগ করেন, ওই সময়ে হাসপাতালের ওষুধ কেনাকাটাতেও অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। মানুষের জন্য বরাদ্দ সরকারি ওষুধ, অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিন, অ্যান্টি-স্নেক ভেনমসহ জরুরি ইনজেকশন হাসপাতালের বাইরে বিক্রি করা হতো। অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।এ ছাড়া চিকিৎসকদের অনিয়মিত হাসপাতালে উপস্থিতি এবং রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ পাওয়ার কথাও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে এ ধরনের অভিযোগের নোট পেয়েছি। চিকিৎসক সংকট, ওষুধ সংকট ও রোগীদের সেবা সহজীকরণে আমরা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’মন্ত্রী জানান, ১৫১ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চালু হলে সেখানে প্রসূতি মায়েদের জন্য ২৫ শয্যার বিশেষ ওয়ার্ড এবং শিশুদের জন্য ২০ শয্যার পৃথক ওয়ার্ড রাখা হবে। পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়েই কিডনি ডায়ালাইসিসের মতো গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাসেবা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।তিনি বলেন, এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে দেশের স্বাস্থ্য খাতের পাশাপাশি চিকিৎসাসেবার পদ্ধতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।
পরিদর্শনের শুরুতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মহেশপুর ও কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং চিকিৎসাসেবার মান, ওষুধ সরবরাহ ও খাবারের বিষয়ে খোঁজখবর নেন। পরে তিনি কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন।
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত জনতার প্রেস