প্রিন্ট এর তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬
সুস্থতা ও অসুস্থতা: মুমিনের জীবনের এক অনন্য পরীক্ষা ও নিয়ামত।
মুক্তা আক্তার , বার্তা সম্পদক ||
যাপিত জীবনে যেকোনো কাজ আগ্রহ ও উৎফুল্লতার সাথে সম্পন্ন করার প্রধান হাতিয়ার হলো শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা। সুস্থ মন ও সবল দেহ ছাড়া আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা যেমন স্থবির হয়ে পড়ে, তেমনি ইবাদত-বন্দেগিতেও বিঘ্ন ঘটে। সুস্থতা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য এক অসীম নিয়ামত। তবে এই নিয়ামতের আসল মূল্য ও গুরুত্ব কেবল একজন অসুস্থ ব্যক্তিই গভীরভাবে অনুধাবন করতে পারেন।দেহে রোগ-ব্যাধি জাঁকিয়ে বসলে দুনিয়াবি কাজকর্মের পাশাপাশি দ্বীনি ইবাদতেও ব্যাঘাত ঘটে। অনেক সময় কষ্টের সাথে ফরজ ও ওয়াজিব ইবাদতগুলো আদায় করা গেলেও সুন্নত ও নফল আমলগুলো আর নিয়মিত করা সম্ভব হয় না। তবে ইমানদার বান্দার জন্য এই অসুস্থতাও কিন্তু আল্লাহর এক বিশেষ রহমত ও নিয়ামত।১. গুনাহ মাফের মাধ্যম হিসেবে অসুস্থতাইসলামি দৃষ্টিভঙ্গিতে মুমিনের অসুস্থতা কেবল কোনো শারীরিক কষ্ট নয়, বরং এটি তার আত্মিক পরিশুদ্ধির একটি বড় সুযোগ। অসুস্থতার মাধ্যমে আল্লাহ বান্দার অপরাধ ও গুনাহসমূহ ঝরিয়ে দেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
‘মুসলিম ব্যক্তির ওপর যে কষ্ট-ক্লেশ, রোগ-ব্যাধি, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, দুশ্চিন্তা ও পেরেশানি আসে—এমনকি তার গায়ে যে কাঁটাটুকু ফোটে, এসবের বিনিময়ে আল্লাহ তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন।’
— (সহিহ মুসলিম: ২৫৭৩)২. মর্যাদা বৃদ্ধির অনন্য উপায়অসুস্থতার কঠিন সময়ে ছবর বা ধৈর্য ধারণ করার মাধ্যমে আল্লাহর দরবারে মুমিনের মর্যাদা অনেক বেড়ে যায়। কষ্ট পাওয়ার পরও আল্লাহর ওপর অসন্তুষ্ট না হয়ে ধৈর্য ধরা মুমিনের ইমানের অন্যতম আলামত।
রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন:
‘যেকোনো মুসলিমের গায়ে কাঁটা ফুটলে কিংবা তার চেয়ে বড় কোনো আঘাত লাগলে, তার বিনিময়ে আল্লাহর কাছে তার একটি মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং তার একটি গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।’
— (সহিহ মুসলিম: ৬৩২৭)৩. অসুস্থ অবস্থাতেও নিরবচ্ছিন্ন সওয়াবআল্লাহ তায়ালা বান্দার প্রতি অত্যন্ত দয়ালু। সুস্থ থাকা অবস্থায় কোনো মুমিন বান্দা নিয়মিত যেসব নেক আমল বা ইবাদত করত, অসুস্থতার কারণে সে যদি তা পালন করতে নাও পারে, তবুও আল্লাহ তার আমলনামায় সুস্থ অবস্থার সমপরিমাণ সওয়াব জারি রাখেন।
এ বিষয়ে হাদিসে এসেছে:
‘বান্দা যখন অসুস্থ হয় অথবা সফরে থাকে, তখন তার জন্য সেই আমলের সওয়াবই লেখা হয়, যা সে সুস্থ থাকা অবস্থায় নিজ ঘরে অবস্থানকালে নিয়মিত করত।’
— (সহিহ বুখারি: ২৯৯৬)মূল পূর্বশর্ত: খাঁটি ইমান ও সচ্ছ নিয়তঅসুস্থতাকে রহমতে পরিণত করার জন্য সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো—আল্লাহর ওপর অটল ইমান, নিয়তের একনিষ্ঠতা এবং সন্তুষ্টচিত্তে ধৈর্য ধারণ করা। এই আত্মিক বিশ্বাস না থাকলে সাধারণ মানুষের জন্য অসুস্থতা কেবলই একটি কষ্টদায়ক শারীরিক ব্যাধি ছাড়া আর কিছুই হয়ে ওঠে না।উপসংহার:
সুস্থ থাকা অবস্থায় আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা এবং নিয়মিত আমলে যত্নশীল হওয়া উচিত; যাতে অসুস্থতার সময়েও সেই আমলের সওয়াব অব্যাহত থাকে। আর অসুস্থ হলে হতাশ না হয়ে ধৈর্যের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও গুনাহ মাফের পথ সুগম করাই একজন মুমিনের প্রকৃত বুদ্ধিমত্তা।
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত জনতার প্রেস