প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬
ছাত্রদলের হামলায় আহত জকসুর জিএস আব্দুল আলিম আরিফের পাশে জামায়াত আমির ডা: শফিকুর রহমান
||
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছাত্রদলের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীদের দেখতে গেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে তিনি রাজধানীর কাকরাইলে ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে গিয়ে আহত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি আহতদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গত কয়েক দিনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা আলিয়া মাদরাসা, ঢাকা কলেজ ও বাংলা কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর ধারাবাহিক হামলা হয়েছে। এসব ঘটনায় ছাত্রশিবিরের বহু নেতাকর্মী আহত হয়েছেন এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত জিএসসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি হামলার ঘটনাকে ‘ফ্যাসিবাদী কায়দার’ সাথে তুলনা করে বলেন, আহতদের হাসপাতালে গিয়েও হামলার শিকার হতে হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে ভুক্তভোগীদের হয়রানি করা হলে জনগণের কাছে ভুল বার্তা যাবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহিংসতা বন্ধ, আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ এবং সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ, ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দ এবং ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন শাখার দায়িত্বশীলরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, অস্থায়ী আবাসনের পরিবর্তে স্থায়ী আবাসন নির্মাণ এবং চিকিৎসাসেবার উন্নয়ন—এই তিন দাবিতে কয়েকজন শিক্ষার্থী কেন্দ্রীয় মিলনায়তনের বাইরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পরে তারা অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের চেষ্টা করলে প্রক্টরিয়াল টিম বাধা দেয়। এ সময় সেখানে উপস্থিত শাখা ছাত্রদলের ক্যাডাররা বহিরাগত সন্ত্রাসীদের সহযোগিতায় লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের বাঁচাতে জকসু নেতারা এগিয়ে এলে তাদের ওপরও বেপরোয়া হামলা চালায় ছাত্রদল। রক্তাক্ত অবস্থায় জকসু জিএস আলিম ও ভিপি রিয়াজকে ক্যাম্পাস থেকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়। এসময় পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ হামলাকারীদের পক্ষাবলম্বন করতে দেখা যায়। আহতদের পাশের ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকেল পৌনে ৫টার দিকে সেখানেও হামলা চালানো হয়। হামলায় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলসহ পুরান ঢাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা অংশ নেয়। হামলাকালে হাসপাতালজুড়ে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়া। হামলাকারীরা আহত শিবির নেতাকর্মীদের ছাড়াও সাধারণ রোগীদেরও বেধড়ক মারধর করে। কয়েক মিনিটের মধ্যে হাসপাতাল তছনছ করে হামলাকারীরা।
ছাত্রদলের হামলায় শিক্ষার্থী, ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীসহ জকসু স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ, ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহিন মিয়া, ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি ইভান তাহসিভসহ অনেকেই আহত হন।
এদিকে একই সময় পাশের সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল কলেজ, ঢাকা কলেজ ও ঢাকা আলিয়া মাদরাসায় পুলিশের সহযোগিতায় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রদল। ঢাকা আলিয়া মাদরাসায় মহানগর দক্ষিণ যুবদলের নেতা চাঁদাবাজ খ্যাত রবিউল ইসলাম নয়ন হেলমেট পরে ও লাঠি নিয়ে ছাত্রলীগের স্টাইলে হামলায় নেতৃত্ব দেন। এসময় নয়নকে শিবিরের ওপর হামলা চালানোর জন্য পুলিশকে শাসাতে দেখা যায়।
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত জনতার প্রেস