প্রিন্ট এর তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৬
ভেনিজুয়েলার পতাকা
||
ভেনিজুয়েলায় রাজনৈতিক উত্তরণ নিয়ে সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে আগামী সপ্তাহে রাজধানী কারাকাসে সরাসরি বৈঠক শুরু হবে। শনিবার (১ আগস্ট) উভয় পক্ষ এ ঘোষণা দিয়েছে। এদিনই দেশটিতে এ সংলাপ শুরুর কথা ছিল।
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি প্রমাণিত তেলের মজুত থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক সঙ্কটে থাকা ভেনিজুয়েলায় চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরো অস্থির হয়ে ওঠে।
এরপর থেকে মাদুরোর সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের নিবিড় তত্ত্বাবধানে কাজ করছে।
গত মাসে দেশটির উত্তরাঞ্চলে ভয়াবহ ভূমিকম্পে সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন। এতে আগে থেকেই সঙ্কটে থাকা দেশটির পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে পড়ে।
দেশটির জাতীয় পরিষদের সভাপতি এবং সরকারের প্রধান আলোচক হোর্হে রদ্রিগেজ বিরোধী নেতা দিনোরা ফিগুয়েরার সাথে টেলিফোনে আলাপের পর বলেন, ‘আগামী সপ্তাহে কারাকাসে প্রথম সরাসরি বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি।’
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমরা সুস্পষ্ট লক্ষ্য নিয়ে একটি কর্মসূচি নির্ধারণ করেছি।’
তিনি জানান, প্রথম বৈঠকে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা, গণতন্ত্রকে আরো শক্তিশালী করা এবং রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
অন্তর্বর্তী নেতা ডেলসি রদ্রিগেজের ভাই হোর্হে রদ্রিগেজ বলেন, ‘তিনি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর আলোচনা প্রক্রিয়া শুরু করতে চান।’
তিনি আরো বলেন, সরকারি প্রতিনিধিদলে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোর্হে আরেয়াসাও ওই বৈঠকে থাকবেন ।
ফিগুয়েরা ২০১৫ সালের নির্বাচনে আইনসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বিরোধী জোটের নেতা। ওই নির্বাচনের ফলাফল যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করলেও মাদুরো তা প্রত্যাখ্যান করেন। ফিগুয়েরা দীর্ঘদিন নির্বাসনে ছিলেন।
এক বিবৃতিতে তিনি টেলিফোনে আলোচনার বিষয়টি এবং আলোচ্যসূচি নিশ্চিত করেছেন। তবে তার প্রতিনিধিদলে বিরোধী দলের শীর্ষস্থানীয় কোনো নেতাকে রাখা হয়নি।
২৪ জুনের ভয়াবহ ভূমিকম্পের কয়েক দিন আগেও হোর্হে রদ্রিগেজ ও ফিগুয়েরার মধ্যে বৈঠক হয়েছিল।
কারাকাসের অন্তর্বর্তী সরকার ও বিরোধী পক্ষের এই সংলাপকে সমর্থন দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের ভাষ্য, আলোচনার মূল লক্ষ্য হবে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, নির্বাচনী ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
পর্যবেক্ষকদের আশা, এই আলোচনা থেকে নতুন নির্বাচনের একটি সময়সূচি নির্ধারণ করা হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার অন্তর্বর্তী নেতা ডেলসি রদ্রিগেজের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
তবে প্রয়াত নেতা হুগো শাভেজের অনুসারী বামপন্থি শাভিস্তারা এই প্রক্রিয়া নিয়ে সন্দিহান। তাদের অভিযোগ, আলোচনায় শুধু যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত প্রতিনিধিদেরই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
২০২৪ সালের সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিকোলাস মাদুরোকে বিজয়ী ঘোষণা করা হলেও ফলাফল নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। বিরোধী পক্ষের দাবি ছিল, তাদের প্রার্থী এদমুন্দো গনসালেস উরুতিয়া প্রকৃত বিজয়ী ছিলেন।
নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো, যিনি বর্তমানে পানামায় অবস্থান করছেন এবং গনসালেস উরুতিয়ার ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র, তিনি ভেনিজুয়েলায় ফেরার অঙ্গীকার করেছেন। তবে তাকে এই আলোচনায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
যদিও মাচাদো বলেছেন, তিনি এই আলোচনার বিরোধিতা করেন না।
দিনোরা ফিগুয়েরা এক বিবৃতিতে রাজনৈতিক উত্তরণ প্রক্রিয়ায় সমর্থন দেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকার, বিশেষ করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, ‘সব ভেনিজুয়েলাবাসীর জন্য একটি মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার সংগ্রামে এটি নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা।’
সূত্র: বাসস
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত জনতার প্রেস