প্রিন্ট এর তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৬
ইরান যুদ্ধ বন্ধের কৌশল খুঁজতে গিয়ে দ্বিমুখী চাপে ট্রাম্প
||
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার উপায় খুঁজতে গিয়ে মিত্রদেশগুলোর কাছ থেকে পরস্পরবিরোধী বার্তা পাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মাধ্যমে ট্রাম্পের কাছে বার্তা পাঠিয়েছেন ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। রিয়াদ চায় এই যুদ্ধের দ্রুত অবসান হোক, কারণ সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করবে।
অপরদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ওভাল অফিসে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আলোচনা সংক্রান্ত বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেন এবং সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে যুদ্ধ চালুর পক্ষে মত দেন।
এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় মার্কিন রাজনীতিতেও উদ্বেগ বেড়েছে। তেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং চলমান সহিংসতার কারণে আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার ভয় করছেন দলটির অনেক নেতা। সম্প্রতি সিএনএনের এক জরিপে দেখা গেছে যে মাত্র ২৮ শতাংশ মার্কিন নাগরিক এই যুদ্ধে ট্রাম্পের ভূমিকা সমর্থন করেছেন।যুদ্ধক্ষেত্র ও কৌশলগত বিষয়ে মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন সতর্ক করে জানান যে কেবল বিমান হামলা চালিয়ে যুদ্ধের সব লক্ষ্য পূরণ সম্ভব নয় এবং তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সরঞ্জামও কমে আসছে। এ ছাড়া সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় মূল অবকাঠামোতে হামলার বিষয়ে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন ট্রাম্প।
ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) প্রভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় কূটনৈতিক আলোচনা আরও জটিল হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জেরার্ড কুশনার চুক্তি হওয়ার বিষয়ে আশাবাদী হলেও ইরানের অভ্যন্তরীণ বহুমুখী নেতৃত্বের কারণে স্থায়ী সমাধান পিছিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে স্বল্পমেয়াদী সমঝোতার চেষ্টা চলছে।
সূত্র: সিএনএন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত জনতার প্রেস