প্রিন্ট এর তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালি সংকট: উত্তরণের কূটনৈতিক পথের খোঁজে ট্রাম্প প্রশাসন
আবুল কালাম আজাদ , নির্বাহী সম্পাদক ||
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালি কেন্দ্রিক বৈশ্বিক সংকট থেকে বের হয়ে আসার নতুন পথ খুঁজছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামরিক চাপের মাধ্যমে তেহরানকে নতুন করে আলোচনার টেবিলে ফেরানো কিংবা পূর্বের সমঝোতা স্মারক কার্যকর রাখা—কোনোটিই সফল না হওয়ায় হোয়াইট হাউস বর্তমানে কূটনৈতিক অচলাবস্থার মুখে পড়েছে।২. আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ প্রভাব:
বৈশ্বিক প্রভাব: হরমুজ প্রণালিতে বেসামরিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মজুত কমছে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে। এর ফলে ইউরোপের সামগ্রিক অর্থনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের পর্যটন খাত বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।
মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতি: যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মূল্য দিতে হচ্ছে। সাম্প্রতিক জরিপে ইরান নীতি ও তেলের মূল্য নিয়ন্ত্রণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর জনসমর্থন ৩০ শতাংশের নিচে নেমে গেছে, যা নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য একটি বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
৩. সম্ভাব্য নতুন কূটনৈতিক সমাধান (হরমুজ ফি মডেল):সংকট কাটাতে মার্কিন থিংক ট্যাংক ও বিশ্লেষকরা নতুন কিছু ধারণার কথা বলছেন:
আন্তর্জাতিক কাঠামো ও ওমানের মধ্যস্থতা: ওমানের মধ্যস্থতায় চলা পরোক্ষ আলোচনার ভিত্তিতে মালাক্কা প্রণালির আদলে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সমন্বয়ে একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্থা গঠন করা যেতে পারে।
‘হরমুজ ফি’: প্রণালিটি পুরোপুরি বন্ধ না রেখে জাহাজ চলাচলের জন্য নামমাত্র একটি ‘সামুদ্রিক সেবা ফি’ বা ‘হরমুজ ফি’ চালুর মাধ্যমে বিশ্ব তেল বাজার স্থিতিশীল রাখার প্রস্তাব এসেছে।
কৌশলগত ভারসাম্য: এর মাধ্যমে ইরান তাদের কৌশলগত প্রভাব ধরে রাখতে পারবে এবং যুক্তরাষ্ট্রও কোনো প্রকাশ্য কৌশলগত পরাজয় ছাড়াই পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে। তবে চুক্তি কার্যকর করতে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও তেল রপ্তানির সুযোগ দেওয়ার শর্ত যুক্ত থাকতে পারে।
৪. ইউরোপীয় মিত্রদের ভূমিকা ও অনিশ্চয়তা:প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় দেশগুলোর ভূমিকা রাখার সুযোগ থাকলেও ট্রাম্প প্রশাসনের একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং দীর্ঘদিনের ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে ইউরোপীয় দেশগুলো সহজে এগিয়ে আসছে না। মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির অনিশ্চয়তার কারণে তেহরান বা ইউরোপীয় দেশগুলো ওয়াশিংটনের অভিপ্রায়ের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখতে পারছে না।উপসংহার:
বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং অর্থনৈতিক বিপর্যয় এড়াতে মধ্যস্থতাকারী ও তৃতীয় পক্ষের দেশগুলোর ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। শেষ পর্যন্ত আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী এবং বিশ্ব রাজনৈতিক পরাশক্তিগুলোর সমন্বিত চাপই এই দীর্ঘমেয়াদি সংকট উত্তরণের মূল পথ তৈরি করতে পারে।
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত জনতার প্রেস