প্রিন্ট এর তারিখ : ২৫ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুলাই ২০২৬
নতুন রাষ্ট্রপতি দলীয় নাকি বাইরে থেকে—সিদ্ধান্ত বিএনপির নীতি নির্ধারণী ফোরামে: মির্জা ফখরুল।
আবুল কালাম আজাদ , নির্বাহী সম্পাদক ||
আগামীতে দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন—বিএনপির দলীয় কেউ নাকি বাইরের কোনো ব্যক্তি, তা নির্ধারণ করা হবে দলের নীতি নির্ধারণী ফোরামের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে। সংবিধান ও প্রয়োজনীয় আইন মেনে আলোচনা শেষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে বগুড়ায় পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (আরডিএ) ৩৪তম বার্ষিক পরিকল্পনা সম্মেলনের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।রাষ্ট্রপতির মনোনয়ন বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলীয় বৈঠকেসদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর বিএনপির পক্ষ থেকে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন:
"এ বিষয়ে বিএনপি দ্রুতই স্থায়ী কমিটির বৈঠক আহ্বান করবে। এখনো আমাদের কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি। স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পরই বিএনপির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়ে দেওয়া হবে।"
এ সময় আগামী রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিজের নাম নিয়ে বাজারে ওঠা গুঞ্জনের বিষয়টি সরাসরি এড়িয়ে গিয়ে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, দলীয় ফোরামের সিদ্ধান্তই এ ব্যাপারে চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।গবেষণায় বরাদ্দ বাড়ানো ও রাজনৈতিক তর্ক পরিহারের তাগিদএর আগে সম্মেলনের প্রধান অতিথির বক্তব্যে গবেষণার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে হলে রাজনৈতিক তর্কের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে সবাইকে কাজের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, দেশে বার্ষিক বাজেটের একটি বড় অংশ অপচয় হলেও গবেষণার মতো মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ পাওয়া যায় না। টেকসই উন্নয়নের জন্য এ অবস্থার পরিবর্তন জরুরি।কৃষি, উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও বিগত সরকারের সমালোচনাকৃষিপণ্যের উপযুক্ত মূল্য এবং যথাযথ বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন:
"পল্লী উন্নয়ন মানে কেবল রাস্তাঘাট আর বাড়িঘর তৈরি করা নয়, গ্রামীণ কৃষকের আর্থিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনা। উপযুক্ত সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের অভাবে আমাদের কৃষকরা উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ সমস্যা সমাধানে গবেষকদের সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।"
বিগত সরকারের তীব্র সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে কাগজে-কলমে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করা হলেও বাস্তবে উন্নয়ন কাজের কোনো চিহ্ন ছিল না। তরুণদের উদ্দেশে তিনি কেবল চাকরি বা ঠিকাদারির পেছনে না ছুটে কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপন ও সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
উক্ত অনুষ্ঠানে বগুড়ার স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি ও গবেষণাসংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত জনতার প্রেস