প্রিন্ট এর তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬
জুতা চুরি নিয়ে রণক্ষেত্র পুরান ঢাকা: জবি শিক্ষার্থী-পুলিশ সংঘর্ষ, সাংবাদিকসহ আহত ১৩।
আবুল কালাম আজাদ ||
পুরান ঢাকার মুরগিটোলা মোড় এলাকায় জুতা চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের সঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৬ জুলাই) রাত ১টার দিকে শুরু হওয়া এই সহিংসতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, কর্তব্যরত সাংবাদিক এবং পুলিশ কর্মকর্তাসহ অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে এলাকাটিতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার প্রতিবাদে গভীর রাতে সড়ক অবরোধ করেন ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং মূল অভিযুক্তসহ দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।ঘটনার সূত্রপাত: সিসিটিভি ফুটেজ ও জুতা চুরিপ্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের (২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলামের বাসা থেকে সম্প্রতি এক জোড়া জুতা চুরি হয়। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে চোর হিসেবে ‘মাইকেল’ নামে স্থানীয় এক যুবককে শনাক্ত করেন শিক্ষার্থীরা।সোমবার রাতে শিক্ষার্থীরা মাইকেলকে আটক করলে স্থানীয় কিছু লোক জড়ো হয়ে তাকে জোরপূর্বক ছাড়িয়ে নেয় এবং উল্টো শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণ করে। হামলাকারীরা পরবর্তীতে স্থানীয় একটি বাসায় গিয়ে আশ্রয় নিলে শিক্ষার্থীরা সেটি ঘেরাও করে রাখে।পুলিশের ওপর চড়াও ও পাল্টা লাঠিচার্জখবর পেয়ে গেন্ডারিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মাইকেলকে উদ্ধার করে নিরাপত্তা দিয়ে বের করে নিয়ে আসার চেষ্টা করে। এ সময় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তকে নিজেদের জিম্মায় নিতে চাইলে পুলিশের সঙ্গে তাদের হাতাহাতি শুরু হয়।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করলে শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। পুলিশের দাবি, এ সময় শিক্ষার্থীদের হামলায় অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) সহ ৫ পুলিশ সদস্য আহত হন। অন্যদিকে পুলিশের লাঠিচার্জে অন্তত ৮ জন শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক আহত হন।সাংবাদিকসহ আহতদের তালিকাআহতদের উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতাল ও রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে (সিপিএইচ) চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন:
সাংবাদিক: লিমন ইসলাম (জবি প্রতিনিধি, দৈনিক আমার দেশ) এবং অপূর্ব রয় (জবি প্রতিনিধি, দৈনিক সময়)।
শিক্ষার্থী: আজহারুল ইসলাম রাহাত (মার্কেটিং), অনিক কুমার দাস (মার্কেটিং), সজীব মৃধা (আইন), হেলাল উদ্দিন (আইন) এবং আশরাফুল ইসলাম (ফিন্যান্স)।
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য
অপূর্ব রয় (আহত সাংবাদিক):
"আমি পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ঘটনার ছবি তুলছিলাম। আচমকা এক পুলিশ সদস্য কোনো কিছু না জিজ্ঞেস করেই আমার ওপর লাঠিচার্জ শুরু করেন। এতে আমার পায়ে ও শরীরে গুরুতর আঘাত লাগে।"
আজহারুল ইসলাম (আহত শিক্ষার্থী):"আমি ওখানে শান্তিপূর্ণভাবে দাঁড়িয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। লাঠির আঘাতে আমার মাথা ফেটে গেছে, হাসপাতালে ৩টি সেলাই দিতে হয়েছে।"মধ্যরাতে সড়ক অবরোধ ও বর্তমান পরিস্থিতিপুলিশের লাঠিচার্জের খবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভ আরও বাড়ে। রাত আড়াইটা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত মুরগিটোলা মোড় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। এতে ওই এলাকার আশপাশের সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেন।গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, মূল আসামি মাইকেল ও আসিকুর রহমান আশিক নামে দুজনকে আটক করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।জবি প্রক্টরের ক্ষোভঅন্যায়ভাবে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন—
"আমি বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি। আমার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের গায়ে পুলিশ এভাবে অন্যায়ভাবে লাঠিচার্জ করতে পারে না। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা করব।"
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত জনতার প্রেস